Pages
Monday, 31 December 2018
মানবের শহর
Friday, 9 November 2018
স্বপ্নের মৃত্যু
মাঝরাতে ট্রেন যাচ্ছে ভুতুড়ে শব্দে
অপেক্ষার পালা শেষে শান্ত তরুণ
এই অপেক্ষা যেন মহাকালের ন্যায়
ধৈর্য্যের বাঁধ ফুরিয়ে মিলিবে তিমিরে
সুখ-স্মৃতি অতীত হয়ে যাবে ফুরিয়ে
বহু কালের ইচ্ছে যাচ্ছে পূরাতে
তবু কোথাও নেই একবিন্দু ভয়,
কেঁপে উঠে রেল লাইন, তাতে হারিয়ে যায়
অন্ধকারে পতিত হতে যাওয়া তরুণের বুক
এতো ঝনঝন আওয়াজে বুঝার উপায় নেই
তরুণের বুকে কতো বিট যাচ্ছে বেড়ে।
সকল আলোর রেখা শেষে ঝনঝন শব্দে মিলেছে
আরেকটি প্রাণ, মুচেছে আরেকটি আশা,
কোথাও নেই কোন দুঃখ, আছে শুধু ট্রেনের শব্দ
কোথাও লিখা নেই- দুঃখ বা দৈন্যদশার কথা,
প্রকৃতি হারিয়েছে তার আরেক সন্তান।
লাশকাটা ঘরে এসেছে তরুণ, কতো শান্ত-ভদ্র
নেই কোন চিন্তা, নেই কোন অভিযোগ
অথচ গতরাতেও ছিলো কতো অভিযোগ
সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে পরম শান্তির ঘুম,
এমন ঘুমই সে চেয়েছে যখন ছিল প্রাণ
কোথাও মিলে নি, কেউ দেই নি
অভিমানে পালিয়েছে, গিয়েছে দূরে
ঠাঁই হয়েছে অন্ধকার এই লাশকাটা ঘরে
যেখানে দেখা মিলে ক্ষত মনের মানুষের
যে ক্ষত সইতে না পেরে মিলিয়ে যায় তিমিরে।
কবিতাঃ স্বপ্নের মৃত্যু
মাহতাব হোসেন
১-১১-২০১৮
মধ্যবিত্ত
শান্ত নদীর মতো গতিহীন জীবন
সমুদ্রের মতো উত্তাল জীবন
রঙধনুর মতো রঙিন ও জীবন
কালবৈশাখীর মতো হিংস্রও বা কখনো
মরুর মতো ধুলোময় হয় জীবন
জীবন পরিপূর্ণতার অন্যনাম
কোন কিছুর কমতি নেই এখানে।
তবুও মধ্যবিত্ত মানুষিকতা অবুঝ
চায় এক শান্ত জীবন, নেই যেখানে প্রবাহ
চায় সবকিছু গুছানো, প্রকৃতি নিষ্ঠুর
বিপরীত মানুষিকতায় চড়া মূল্য চায়
জীবনের বাঁকে বাঁকে অর্থহীন করে তুলে
কোনকিছুই বাদ রাখে না, বিপদ তাই সর্বত্র
জীবনের ভারে মধ্যবিত্ত একদিন জীবনহীন হয়
মেনে নেয় সবকিছু, থাকে না যখন কিছু করার
কবিতাঃ মধ্যবিত্ত
মাহতাবের ডায়েরী
নভেম্বর ৯,২০১৮।
Tuesday, 16 October 2018
যন্ত্রের যন্ত্রণা
তেল কিনতে নুন ফুরায় অবস্থা
সমাজের যাঁতাকলে পিষ্ট আমি নতজানু
দেখে শুনে চুপ করে থাকাই আমার নিত্য কাব্য
পকেট গুনে আমাকে চলতে হয়, প্রেমিকার দেখা
মানিব্যাগে এসে বন্ধি হয়ে যায়, মধ্য দুপুরে ক্ষুধা
এক কাপ চা আর একটা সিগারেটে মিটে যায়
তবুও, ভালো আছি- কারো প্রশ্নে উত্তরে আসে কথা।
সবাই মস্তবড়ো সরকারি চাকুরীজীবি,
আজকাল অনুভূতি এতোটা দুর্বল হয়েছে
এগুলো শুনে আমার কোন বোধ জাগে না
আমি এক ক্ষুদ্র লেখক, কাগজে কলমে কারবার
মস্তবড়ো ব্যাপার গুলো আমার কাছে অহেতুক লাগে
তবুও চুপ থাকি, লিখে যাই যাচ্ছে তাই,
আমি লিখি, সত্য মিথ্যে লিখেই পেট চালাই
তবুও আমার শূন্যতা , পকেট ভর্তি হতাশা
বহু আগে গিয়েছি পাহাড়ে, বন্ধুর করুণায় হয়েছে দেখা
কে জানতো পাহাড় কতো বড়, যদি না হতো দেখা।
আমার কল্পনায় আমি রাজা- আমি প্রজা,
খুব শূন্যতায় ভুগলে কখনো গল্পে গরিব ছেলেটিকেও
ধনীর দুলালে রুপ দেই, নিজেকে মুক্ত করি
শূন্যতা নামক অহেতুক ব্যাপার থেকে।
মাহতাবের ডায়েরী।
Saturday, 21 April 2018
এগারো'শ স্কোয়ার ফিট
মাহতাব হোসেন
এগারো'শ স্কোয়ার ফিটের বসতঘর
এরই মাঝে ছয়-ছয়টা মানুষ কত পর
মনের দূরত্ব কাছে থেকেও করেছে দূর
শরীরে থেকেও কেউ নেই মনের কাছাকাছি।
এগারো'শ স্কোয়ারে কতো জীবন বিধাতা
কারো বা টিকে থাকার সংগ্রাম, কারো হারাবার
কেউ বা বিরক্ত জগত-সংসারের নিয়ম ভেবে
কেউ বা স্বপ্নের কথা ভাবছে, কিভাবে করবে শুরু,
কেউ বা ঘোর থেকে সরে এসেছে বাস্তবতায়।
এগারো'শ স্কোয়ারে থেকেও কেউ নেই কারো মনে
তবুও তারা থাকছে কাছাকাছি- না থাকার মতো,
যাচ্ছে বহে জীবনপথ, কখনো হেসে-খেলে,
কখনো বা দু:খ পেয়ে, কখনো বেদনার তিমিরে,
তবুও দিন শেষে সবাই আপন, সবাই একক,
সবাই স্বপ্ন আঁকে, বেঁছে থাকার প্রত্যয়ে
এ যে বেঁছে থাকার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
এগারো'শ স্কোয়ারে আছে ঋতু, আছে পরিবর্তন,
পালাক্রমে এখানেও দু:খ আসে, আসে বর্ষাকাল
তাতেও যায় না কেউ বানের জলে ভেসে
এখানেও ফুল ফুটে, হাসিউঠে নতুনের আগমনে
বিপদ এখানেও চিন্তার রেখাপাত ঘটায়
এখানেও শোক নামে রক্তের বিয়োগকালে,
এতো কিছু থেকেও কেউ নেই কারো মনোরাজ্যে।
এ যেন সৃষ্টির এক অলৌকিক খেলা
সবার মাঝে থেকেও নেই কেউ কারো মাঝে
এগারো'শ স্কোয়ারেও যেন- কোথাও কেউ নেই।
Monday, 12 March 2018
সভ্য ফুল
সভ্য ফুল
মাহতাব হোসেন
দিনের আলো ফুরায় যখন শহর ঢেকে যায় নতুন আলোয়
দলে দলে নেমে পড়ে পেশাদার কর্মী
নতুন কর্মের সন্ধানে রাস্তায় দাঁড়ায়,
খুঁজে ফিরে দেখে যায় মানুষের মনোভাব
মন বুঝে হাক দেয়- 'এই ভাই আসেন বিশ টাকা'।
দাম শুনে কেউ বা পালাবার ভান করে মনে তার বিরক্তি নিয়ে, কেউ বা কাছে আসে তৃপ্তির আশায়
ইশারায় চলে যায় কোন এক অস্থায়ী ছাউনির তলে
শরীরের সুখ ফিরে কিছু টাকা খসে তাতে।
নতুন শিকারের সন্ধান খোঁজে, আবার ফিরে রাস্তায়
মাঝে মাঝে পুলিশ আসে; ভাগ জুটায় পাতে, চুপিচাপি দিয়ে যায় কিছু দান, মনে রেখে খিস্তি,
শহরের বাপ বলে যায় না করা তর্ক, দয়া যদি ফুরায়, ঝুটবে না কপালে দুটো ভাত!
কতো নিষ্টুর মানুষ, নেই কারো মনে করুনা!
মাগির পাতেও বসায় ভাগ! সর্বাঙ্গএ নিষ্ঠুরতা।
নতুন আশায় ক্ষুধাতুর কুকুরে মতো দৃষ্টি রাস্তায়
মানব দেখে মুছে যায় বিরক্তি, কিছু চলে কথা- এ যেন কুকুরের আলাপন।
সভ্যতার উন্নয়ন আশে, ফিরে অর্থনীতির চাকা,
ফিরে না চাকা রাস্তায় থাকা সস্তা মাগির।
এ যেন শহুরে বেড়ে উঠা কুকুরের দল,
সভ্যতার ভিন্ন মেরু, কুৎসিত যার রুপ!
কত শরীরের ধকল যায়, রকমারি গায়ের গন্ধ, নিস্তেজ হলে কেউ বা চিনে না, এই মাগি কে?
কেউ চায় না জানতে কেন বা রাত্রিতে খুলে-
রক্ত মাংসের দোকান!
কেউ বা রাখে না খবর মাংসের ধকল নিতে নিতে আরেকটা শরীরের কষ্টের হাপানি।
রাত্রি যখন ইতি টানে, শরীর গুলোও থামে তখন,
ময়লা-ঘামের গন্ধ নিয়ে ক্লান্ত শরীরেরা নীড়ে ফিরে।
এ হৃদয় বিদারতায় কোথাও ঘটে না অস্বাভাবিকতা
এ যেন সভ্য সমাজে অসভ্যতার চরম লীলাখেলা।
Friday, 2 February 2018
সন্ধ্যা
এই সন্ধ্যা নামবে রাজপথে, চিরচেনা সন্ধ্যা
কোন এক সাঁঝ বিকেলে বসে ছিলাম অপেক্ষায়
সন্ধ্যা আসবে রাজপথ ঘিরে, তুমিও আসবে তখন
কতো সন্ধ্যা রাজপথের ওপাশে থাকা তোমার বাসা
চেয়ে থেকেছি তোমার আশায়, তবুও সন্ধ্যা আসে,
আসে গভীর রজনী, দিন শেষে আবার নতুন সন্ধ্যা
তবুও মিলে না যে তোমার দেখা, এই সন্ধ্যা বেলায়।
সন্ধ্যা আসবে বলে ফুটপাতে বসে মেলি পাতা
দুমুঠো ভাবনা ভাববো বলে ডায়েরীর পাতায়
মাঝেমাঝে ঝিমুনি কাটে চায়ের কাপে মুখ লেগে
সময় কাটবে না ভেবে পকেট ভরি সস্তা বাদামে
এক এক করে বাদামও ফুরায় সন্ধ্যাবেলায়
তবুও ফুরায় না যে তোমাকে দেখার সন্ধ্যাবেলা।
মাহতাব হোসেন
ফেব্রুয়ারি ২, ২০১৮।