Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts
Showing posts with label বাংলা কবিতা. Show all posts

Wednesday, 17 November 2021

কবিতা

 তাহার সাথে প্রেম নেই,

নেই কোন সংঘাত, 

ধৈর্যবান হয়েও হচ্ছে না লেখা,

তবুও মিটিমিটি আশা নিয়ে ভাবি 

যদি আসে সে চিন্তাকালে নিরালায়, 

প্রিয় কবিতার দল-মাঝেমাঝে চিন্তা করি

যদি হতে পারি তোমাদের স্রষ্টা, 

ছন্দ মিলুক-না মিলুক, শব্দে শব্দে লিখে যাবো 

এক একটি কবিতা, সবাই জানবে তখন

কবিতারাও রাজস্বাক্ষী হয়! 

ক্ষুধা-মন্দা, চুরি কিংবা রাজাদের খামখেয়ালি কান্ডে! 

তবুও ভাবি একদিন বিদ্রোহ হবে কবিতার বাক্য হয়ে! 


মাহতাবের ডায়েরী

০৪-১১-২১

বিষন্ন শহর

 বিষন্নতায় মিশে আছে এ শহুরে বাতাস 

আড়ি পেতে শুনা যায় কান্নার আওয়াজ 

স্বার্থক্ষুধায় মগ্ন আত্মার আত্মীয়তা 

লুকিয়ে মুক্তি খোঁজে বোবা চাতকের দল! 


বিশাল এই ক্যানভাস, এক রনতরী 

যুদ্ধ যুদ্ধ খেলে শেষ যার, নয়তো লুকিয়ে

খুঁজে- মুক্তি নামক মরীচিকা!


চড়ামূল্যে পন্য ভোজন, সইচে না পকেট 

তবুও মুখ ভর্তি নিরবতা, উন্নয়ন চোখেমুখে 

কেউ যেন কিছু না, ঝমকালো আলোর নিচে! 


হাহাকার কিংবা নীরবতা সবকিছু ঢাকা যায়

শহরের বড়সড় দালানকোঠার আড়ালে 


তবুও এই অমানুষের শহরে, কেউ যেন জেগে উঠুক 

নিজেদের অধিকার আর আত্মসম্মান জাগ্রত করতে! 


মাহতাবের ডায়েরী

০৬-১১-২১

অতীত

 দীর্ঘ কালোছায়ায় ঘেরা অতীত 

শুদ্ধতার খোঁজে নতুন করে;

তবুও ক্ষত আঁকারে জেগে উঠে 

নতুন করে পুরাতন স্মৃতি! 


ভালোবাসার দাবিদার আমিও তবুও

ভুল দরজায় কড়া নাড়ে পুরাতন ক্ষত'য় 

অধিকারবোধ দেখাতে গিয়েও থেমে যায় কথা 

এখনো যে মিলিয়ে নেয় কালো ছায়ায় কথা

একচিলতে ঘাড়বে গিয়েও চুপ হয়েছে মোর কথা 

তবুও থেকে যাবো চুপ তোদের কথায়! 


ভালোবাসার দাবিদার আমিও তবুও থেকেছি চুপ 

এক চিলতে চিলতে করে অচেনা হবে সব 

যদি না মিলে-

সময়ের সাথে গড়িয়ে চলা নতুন মনস্তত্ত্বতা! 


মাহতাবের ডায়েরী

১৩-১১-২১

ক্ষুধার্ত তুমি

 এই ক্ষুধার্ত বেকুপের দল ক্ষুধার যন্ত্রনায় না ভুগে 

অধিকার আদায়ে জ্বালাময়ী হওয়, তুমি ক্ষুধার্ত 

কারন তুমি বোকা, তুমি ক্ষুধার্ত কারন তুমি সচেতন না,

তোমার অধিকার নিয়ে তুমি নিশ্চুপ, জড়ো পদার্থের ন্যায় 

তোমারই সুযোগে যালিমের দল কেঁড়ে নিচ্ছে তোমার অন্ন 

তোমার আয়ের ভাগ, তুমি চুপ তাই চোরেরা বেড়ে উঠে 

তোমার হক মেরে খায়, তারপরেও পাথরের ন্যায় অনড় 

অধিকার নিয়ে আওয়াজ তুলবে না এই শপথে! 


ক্ষুধার যন্ত্রনায় তোমার শরীর কাবু, মন দুর্বল তবুও 

বিপ্লব জাগে না মনে, শুধু ভাব সুদিন আসবে;

এই দুর্বল মানুষিকতা তোমার পতনের কারন তবুও

তুমি বুঝ না ক্ষুধার জ্বালায় কেন মানুষ রাজপথে নামে 

কেন যুগে যুগে বিপ্লবী জন্মায় যালিমদের নিপাত ঘটাতে, 

তুমি চুপ বলে নতুন প্রজন্মের অধিকারকেও বঞ্চিত রাখ 

নতুন পৃথিবীর কাছে তুমিও অপরাধী, তুমি ব্যর্থ বলে! 

প্রজন্মের বাহকেরাও ক্ষুধার্ত পৃথিবী পাবে যদি না জেগে উঠে তোমার কণ্ঠে শোষনের বিরুদ্ধচারী আওয়াজ!


কবিতা-ক্ষুধার্ত তুমি

মাহতাব হোসেন 

Wednesday, 19 February 2020

চেনা অচেনা

দুঃখ শুনার জন্যে একটা নিরাপদ স্থান থাকে
ইচ্ছে জানানোর একজন সঙ্গী থাকে
মন বুঝার জন্যে একজন কেউ থাকে
তোমার, তুমি ছাড়া আর কে আছে?

স্রোতধারা অন্ধকারে তোমার ভাবনায়
ভেসে উঠে না আপন বলে আছে কেউ পাশে?
তুমি কি ভাবো না, মানুষ একা থাকতে পারে না?
নাকি ভাবো, কেউ আপন হয়ে থাকতে চায় না!

মাহতাবের ডায়েরী
১৮-০২-২০২০।

Wednesday, 20 February 2019

বৃত্তে বন্দী

দেখ, এখনো সন্ধ্যা নামে নিয়ম করে
সূর্য উঠে আগের মতো,
বসন্ত আসে হুট করে
নদীতে নৌকা চলে পাল তুলে
প্রকৃতি তার আপন গতিতে চলে
পৃথিবী আগের মতো চলছে কিন্তু
আটকে থাকা মানুষ গুলো পৃথিবীকে
করে যাচ্ছে নিষ্ঠুর, নিয়মের ভেতরে- বাহিরে
সবকিছু হচ্ছে, তবুও তা থেকে শিখছে না কিছু
সবকিছু নিয়মের মধ্যে খুঁজতে গিয়ে তুমি হয়েছ
নিষ্ঠুর, এই আটকে পড়া মানুষের মতো নিষ্ঠুর।
পৃথিবীর এই নিষ্টুর খেলায় তুমিও যুক্ত হয়েছ
তোমার মনকে তুমিও নিষ্ঠুরতা যুক্ত করেছ।

তবুও এই নিষ্ঠুরতার বাহিরে থেকে পাখিরা উড়ে
মানুষ হাসতে পারে, বাঁচতে শিখে, স্বপ্ন দেখে
তবুও মানুষ বিলাশি কাব্য গেঁথে যাচ্ছে।
কোথাও কোন সমস্যা দেখা দিচ্ছে না
এই শতকে এসে যতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে
তা তোমার আমার মধ্যে এসেই বন্ধী হচ্ছে।

কবিতা-বৃত্তে বন্দী
মাহতাব হোসেন 

Friday, 15 February 2019

প্রিয় তুমি (আল মাহমুদ)

তুমি মরেও জীবন্ত সাক্ষী
জন্ম নেয়া তোমার সৃষ্টকাব্যে
বুঁনে যাওয়া প্রতিটা শব্দমালায়।

তুমি দিব্যি জীবন্ত গেঁথে যাওয়া বইয়ে
তুমি থাকবে অটুট- নোলকের মালায়,
তুমি আসবে আবার নতুন রূপে, রমনীর তরে
খোলা আকাশে হেঁটে চলা তরুনের মায়ায়
বহে যাবে তোমার গুণ- শহর পাড়ায়
ভালো থেকো কবি- সৃষ্ট কাব্যের মায়ায়
ভালো থেকো সৃষ্টির আড়ালে মহান হয়ে
তুমি যাবে না ভুলে তোমার সৃষ্টির রাজ্যে
রাজা হয়ে থেকে যাবে তুমি সৃষ্টকর্ম ফলে।

প্রিয় তুমি
মাহতাব হোসেন
(কবি আল মাহমুদ এর মৃত্যুতে কবির  স্মরণে আমার এই ছোট লেখা তাঁকে নিয়ে)
১৫-০২-২০১৯

Friday, 9 November 2018

স্বপ্নের মৃত্যু

মাঝরাতে ট্রেন যাচ্ছে ভুতুড়ে শব্দে
অপেক্ষার পালা শেষে শান্ত তরুণ
এই অপেক্ষা যেন মহাকালের ন্যায়
ধৈর্য্যের বাঁধ ফুরিয়ে মিলিবে তিমিরে
সুখ-স্মৃতি অতীত হয়ে যাবে ফুরিয়ে
বহু কালের ইচ্ছে যাচ্ছে পূরাতে
তবু কোথাও নেই একবিন্দু ভয়,
কেঁপে উঠে রেল লাইন, তাতে হারিয়ে যায়
অন্ধকারে পতিত হতে যাওয়া তরুণের বুক
এতো ঝনঝন আওয়াজে বুঝার উপায় নেই
তরুণের বুকে কতো বিট যাচ্ছে বেড়ে।

সকল আলোর রেখা শেষে ঝনঝন শব্দে মিলেছে
আরেকটি প্রাণ, মুচেছে আরেকটি আশা,
কোথাও নেই কোন দুঃখ, আছে শুধু ট্রেনের শব্দ
কোথাও লিখা নেই- দুঃখ বা দৈন্যদশার কথা,
প্রকৃতি হারিয়েছে তার আরেক সন্তান।

লাশকাটা ঘরে এসেছে তরুণ, কতো শান্ত-ভদ্র
নেই কোন চিন্তা, নেই কোন অভিযোগ
অথচ গতরাতেও ছিলো কতো অভিযোগ
সবকিছুর অবসান ঘটিয়ে পরম শান্তির ঘুম,
এমন ঘুমই সে চেয়েছে যখন ছিল প্রাণ
কোথাও মিলে নি, কেউ দেই নি
অভিমানে পালিয়েছে, গিয়েছে দূরে
ঠাঁই হয়েছে অন্ধকার এই লাশকাটা ঘরে
যেখানে দেখা মিলে ক্ষত মনের মানুষের
যে ক্ষত সইতে না পেরে মিলিয়ে যায় তিমিরে।

কবিতাঃ স্বপ্নের মৃত্যু
মাহতাব হোসেন
১-১১-২০১৮

মধ্যবিত্ত

শান্ত নদীর মতো গতিহীন জীবন
সমুদ্রের মতো উত্তাল জীবন
রঙধনুর মতো রঙিন ও জীবন
কালবৈশাখীর মতো হিংস্রও বা কখনো
মরুর মতো ধুলোময় হয় জীবন
জীবন পরিপূর্ণতার অন্যনাম
কোন কিছুর কমতি নেই এখানে।
তবুও মধ্যবিত্ত মানুষিকতা অবুঝ
চায় এক শান্ত জীবন, নেই যেখানে প্রবাহ
চায় সবকিছু গুছানো, প্রকৃতি নিষ্ঠুর
বিপরীত মানুষিকতায় চড়া মূল্য চায়
জীবনের বাঁকে বাঁকে অর্থহীন করে তুলে
কোনকিছুই বাদ রাখে না, বিপদ তাই সর্বত্র
জীবনের ভারে মধ্যবিত্ত একদিন জীবনহীন হয়
মেনে নেয় সবকিছু, থাকে না যখন কিছু করার

কবিতাঃ মধ্যবিত্ত

মাহতাবের ডায়েরী
নভেম্বর ৯,২০১৮।

Tuesday, 16 October 2018

যন্ত্রের যন্ত্রণা

এই যন্ত্রের শহরে আমি অসহায়
তেল কিনতে নুন ফুরায় অবস্থা
সমাজের যাঁতাকলে পিষ্ট আমি নতজানু
দেখে শুনে চুপ করে থাকাই আমার নিত্য কাব্য
পকেট গুনে আমাকে চলতে হয়, প্রেমিকার দেখা
মানিব্যাগে এসে বন্ধি হয়ে যায়, মধ্য দুপুরে ক্ষুধা
এক কাপ চা আর একটা সিগারেটে মিটে যায়
তবুও, ভালো আছি- কারো প্রশ্নে উত্তরে আসে কথা।

শুনেছি প্রেমিকার জন্যে পাত্র পক্ষ আসে বারবার
সবাই মস্তবড়ো সরকারি চাকুরীজীবি,
আজকাল অনুভূতি এতোটা দুর্বল হয়েছে
এগুলো শুনে আমার কোন বোধ জাগে না
আমি এক ক্ষুদ্র লেখক, কাগজে কলমে কারবার
মস্তবড়ো ব্যাপার গুলো আমার কাছে অহেতুক লাগে
তবুও চুপ থাকি, লিখে যাই যাচ্ছে তাই,
আমি লিখি, সত্য মিথ্যে লিখেই পেট চালাই
তবুও আমার শূন্যতা , পকেট ভর্তি হতাশা
বহু আগে গিয়েছি পাহাড়ে, বন্ধুর করুণায় হয়েছে দেখা
কে জানতো পাহাড় কতো বড়, যদি না হতো দেখা।
আমার কল্পনায় আমি রাজা- আমি প্রজা,
খুব শূন্যতায় ভুগলে কখনো গল্পে গরিব ছেলেটিকেও
ধনীর দুলালে রুপ দেই, নিজেকে মুক্ত করি
শূন্যতা নামক অহেতুক ব্যাপার থেকে।

অক্টোবর ১৫, ২০১৮।
মাহতাবের ডায়েরী।

Saturday, 21 April 2018

এগারো'শ স্কোয়ার ফিট

এগারো'শ স্কোয়ার ফিট
মাহতাব হোসেন

এগারো'শ স্কোয়ার ফিটের বসতঘর
এরই মাঝে ছয়-ছয়টা মানুষ কত পর
মনের দূরত্ব কাছে থেকেও করেছে দূর
শরীরে থেকেও কেউ নেই মনের কাছাকাছি।

এগারো'শ স্কোয়ারে কতো জীবন বিধাতা
কারো বা টিকে থাকার সংগ্রাম, কারো হারাবার
কেউ বা বিরক্ত জগত-সংসারের নিয়ম ভেবে
কেউ বা স্বপ্নের কথা ভাবছে, কিভাবে করবে শুরু,
কেউ বা ঘোর থেকে সরে এসেছে বাস্তবতায়।

এগারো'শ স্কোয়ারে থেকেও কেউ নেই কারো মনে
তবুও তারা থাকছে কাছাকাছি- না থাকার মতো,
যাচ্ছে বহে জীবনপথ, কখনো হেসে-খেলে,
কখনো বা দু:খ পেয়ে, কখনো বেদনার তিমিরে,
তবুও দিন শেষে সবাই আপন, সবাই একক,
সবাই স্বপ্ন আঁকে, বেঁছে থাকার প্রত্যয়ে
এ যে বেঁছে থাকার নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।

এগারো'শ স্কোয়ারে আছে ঋতু, আছে পরিবর্তন,
পালাক্রমে এখানেও দু:খ আসে, আসে বর্ষাকাল
তাতেও যায় না কেউ বানের জলে ভেসে
এখানেও ফুল ফুটে, হাসিউঠে নতুনের আগমনে
বিপদ এখানেও চিন্তার রেখাপাত ঘটায়
এখানেও শোক নামে রক্তের বিয়োগকালে,
এতো কিছু থেকেও কেউ নেই কারো মনোরাজ্যে।

এ যেন সৃষ্টির এক অলৌকিক খেলা
সবার মাঝে থেকেও নেই কেউ কারো মাঝে
এগারো'শ স্কোয়ারেও যেন- কোথাও কেউ নেই।