Thursday, 18 January 2018

জাতি

বই থেকে বিমুখ জাতি তাতে 
বাড়ছে বুদ্ধিজীবী- আতেলের ঘর,
আওড়াচ্ছে স্থুলচিন্তা, তলে জমে শ্যাওলা।

বাড়ছে ক্রাইসিস, বাড়ছে বুদ্ধিলোপ,
কাগজের দরে জ্ঞানী, কেজি দরে জ্ঞান,
হচ্ছে অপচয় বইয়ে কালি, বাড়ছে জটলা শব্দে।

হচ্ছে জ্ঞানদূষণ, বাড়ছে তাতে ছাপোষা জাত,
জ্ঞানী পাচ্ছে সাম্রাজ্য- চাটুকারি আর চামচামির,

গুণী লোক সে, যে তোলে দাবি নিজ থেকে,
কদর জমে তার যে বলে সে'ই সেরা- জ্ঞানী।
সমাজ শিখরে তাকিয়ে দেখো- চোর, ডাকাত, অসৎ,
তারা'ই গুণী, তারা'ই জ্ঞানী; তারা'ই সর্বেসর্বা। 

আদর্শ থেকে দূরে এসে গড়ছে এক মহান জাতি
বই থেকে দূরে এসে হচ্ছে অন্য এক জ্ঞানী জাতি
রাজনীতি নামে নোংরামি খেলে হচ্ছে সবাই মহান নেতা।

দেশ প্রেম প্রেম খেলে গড়ছে তাতে অর্থের পাহাড়
আধুনিকতা নাম করে দিচ্ছে নৈতিকতায় বির্ষজন
ধর্মের নাম করে করে দিচ্ছে মানব ধর্মে ভরাডুবি।

এ এক অনন্য জ্ঞানী জাতি, এই এক আজব সৃষ্টি
স্রষ্টার কৃপায় বেঁচে আছে সে - ধংস যে প্রাপ্য তার।

Monday, 15 January 2018

বিজ্ঞপ্তি

একদিন আমার খোঁজে ছেদে যাবে তোমার শহর
ছাপবে বিজ্ঞপ্তি পত্রিকার পাতায় জুড়ে জুড়ে
দেয়াল জুড়ে বড় অক্ষরে অক্ষরে লেখা থাকবে
আমাকে পাওয়ার আশায় শত শত দু:খ ভরা কাব্য।

একদিন কাকডাকা দুপুরে বারান্দায় দাঁড়িয়ে
রোদেলা সময়ে তুমি খুঁজবে আমার চেয়ে,
বারান্দায় ঝুলে থাকা গুল্মলতা খেলবে
দোল- তোমার ন্যায় অপেক্ষায় চেয়ে।

একদিন আমাকে খুঁজে খুঁজে তোমার
               শহর জুড়ে জমবে হতাশায় ছায়া
ক্লান্তির ছাপ পরবে তোমার শহরে;
                 প্রতিটা অলিগলি আর রাস্তায় রাস্তায়।

একদিন আমাকে খুঁজে খুঁজে ক্লান্ত হবে তুমি
নিত্য নিখোঁজ সংবাদে চেপে যাবে আমার সংবাদ।
ব্যস্ততায় কেউ রাখবে না খোঁজ কেনা বা আমি নিখোঁজ?

Friday, 12 January 2018

পর্দা

পর্দা
মাহতাব হোসেন

নিজেকে ডেকেছিলে এক কাপড়ে
পর্দার আড়ালে মায়াবী চোখদুটো
জাদু খেলে যায় দেখে মনের গহীনে।

একনজর দেখার আকুতি-ঢাকা মুখ,
পর্দায় আড়ালে থাকা রুপবতী কন্যা।

প্রেমের ফাঁদে রেখে দেখা মিলে কন্যার
পর্দার আড়ালে থাকা লাবণ্যমাখা মুখ।
যাদুময়ী চেহারায় কাটতে চায় না ঘোর
দিতে চায় না মন আবার পর্দায় লুকাতে।

হুট করে একদিন কন্যা লজ্জাশরম ভুলে
ছলছল মুখে বলে আর নয়-পর্দায় ঢাকা।

পর্দায় ঢাকা মুখ অন্যভাবে নিজেকে দেখতে চায়
ভালোবাসা ভালোবাসা নামক খেলায় জড়িয়ে।

প্রেমিক নিশ্চুপ, নীরব ভূমিকায় থাকতে চায়
ভালোবাসায় এসে স্বাধীনতায় হানা দিতে চায় না
তবুও মন সয় না পর্দায় লুকিয়ে থাকা-
                       যাদু উম্মচোন হোক সবার মাঝে।

Wednesday, 3 January 2018

সোনালী রোদ্দুর

সোনালী রোদ্দুর
মাহতাব হোসেন

ভোরের শিশিরে প্রথম কুয়াশা তোর চাহনিতে
হেমন্তে সোনালী রোদ্দুর আসে তোর চুলের আকেবাকে
শীতল মায়া খেলে যায় তোর চোখের পলকে
একরাশ ভালোবাসা ছুঁয়ে যায় তোর শরীর জুড়ে
আধোআধো কণ্ঠে ভেসে আসে তোর মিষ্টি সুর
কাঠপোড়া রোদেজ্বলে মন চায় তোকে ছুঁই।

তোকে খুঁজে খুঁজে তৃষ্ণা জাগে এই মনে
তোকে কল্পনায় ভেবে ভেবে ব্যাকুল এই হৃদয়
তোকে চাই গ্রীষ্মে, তোকে চাই বর্ষায়, তোকে চাই
ঋতুরাজ বসন্তে কোকিল ডাকা বিকেলে।

ঘুটঘুটে অন্ধকারে তোকে চাই প্রদীপ রুপে
কণকণে শীতে তোকে চাই উষ্ণতা পেতে,
তোকে চাই দুপুর-বিকেল, সন্ধ্যা-রাত্রি
তোকে চাই আমি প্রথম সকাল।

Sunday, 31 December 2017

অনুক্ষণ

‌অনুক্ষণ
মাহতাব হোসেন

দূর পাহাড় ঘেঁষে থাকে আকাসের গায়ে
বিশদ নদী এসে ঠাই নেয় সমুদ্রজলে
ঝর্না ঝরে পড়ে ক্ষণেক্ষণে সমতলে
মনুষ্য দেখা দেয় আচার-আচরণে
ভালোবাসা ফুটে উঠে আকাল সময়ে।

শিল্প জেগে উঠে কখনো বা প্রয়োজনে
প্রেম খুঁজে বেড়ায় হারাবার পরে,
বাঁচার কদর বাড়ে মরনকালে।

অতিপ্রেম জাগে ঘনঘন - স্বার্থ খর্বে
অন্ধপ্রেম রাখে করে কৃতদাস হয়ে,
আশা অতি করে দিত -মুল লক্ষ্যস্থল।

ভালোবেসে যে গান আওড়ায় না আজ
কাল বা সে গান পায় না পূর্বাধিকার।

যে ভালোবাসা আসে না স্বজাতিতে
সে ভালোবাসায় নেই স্বভূমি প্রেম,
যে শাসক বার বার প্রতিশ্রুতিতে ব্যর্থ,
প্রতিবারই থেকেছে স্বার্থচিন্তায় প্রমুখ।


Saturday, 30 December 2017

তুমি আর আমি

কোন এক মেঘলা বিকেলে তুমি
আর আমি নীলক্ষেতে সেই গলিতে 
কিনতে গেলাম তোমারি পছন্দের দুইখানা বই।

মুখভরা হাসি নিয়ে তুমি যখন বই হাতে দাঁড়িয়ে
আমি তখন ঠিক তোমারি পাশে দাঁড়িয়ে জনতার
ছুটাছুটি আর দৌড়াদৌড়ি দেখে আকাশে একপলক
তাকিয়ে তোমারি দিকে মুখটা ফিরিয়ে আনলাম।  
তুমি তখন বৃষ্টির আগমনকে স্বাগত জানিয়ে
আমার হাত খানা ধরে রাস্তায় নেমে পরলে।

তার পর কি ঘটেছে তুমি কি মনে করতে পারো?

তার পর বৃষ্টির মধ্যে আমাদের উৎকর্ষতা দেখে
কিছু জনতা আমাদের দিকে তাকিয়ে নিজেরা
নিজেদের মধ্যে চোখাচোখি করতে লাগলো।  
কিন্তু তারা তো জানে না তুমি আর আমি কতো
দিবানিশি এই রকম একটা মুহূর্তের অপেক্ষায় ছিলাম।

তারপর?
তারপর তুমি আর আমি বৃষ্টিকে নিজেদের
গায়ে বরণ করে একটি রিক্সায় উঠলাম। তখন তুমি
আমার হাতখানা তোমার কোমলতা দিয়ে জড়িয়ে নিলে।

কিছুটা পথ আসার পর তোমারি মুখপানে তাকিয়ে আবিষ্কার
করলাম নতুন এক রমণীর মুখমণ্ডল। তুমি তখন তোমার পাণে
চেয়ে থাকার কারনটা জানতে চাইলে। আমি প্রেমময় পুরুষের মতো
করে তোমারি রূপের কথা ব্যাখা করলাম। যে রূপেতে বৃষ্টির ছোঁয়া লেগে
কোমলতার পরিমান দ্বিগুণ হয়ে গেলো।
একথা শুনে তুমি আমাকে যে উপহারটা দিলে
তা ছিলো আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ উপহার। 

তুমি কি একটা কথা জানো?
হয়তো এখানে না জানারও কিছু নেই কিন্তু আমি বলে যাবো
তোমার আমার পরিচয়ের পর বিয়ে তার পর ঘরসংসার ছেলেমেয়ে
তারপরেও ভালোবাসা আমাদের নিকট অফুরুন্ত রয়ে গেছে।
এখন কি তুমি আমাকে সেই বৃষ্টির দিনের উপহারটা ফিরিয়ে দিবে?

Friday, 29 December 2017

নিশি কাব্য

রাত্রি বড্ড খারাপ,
লুকিয়ে থাকা কষ্ট গুলো উকি দেয়,
হায়নার মতো জাপটে পড়ে দু:খ-সুখের মুখ,
নিষ্ঠুর সত্তাও হু হু করে কেঁদে উঠে
পুরাতন ক্ষত ঘেটে।
রাত্রি বড্ডই খারাপ, রাতের মতোই কালো,
ইতিহাস-কালো অধ্যায় মিলে; রাত্রি এলে শেষে।
মাহতাব হোসেন
ডিসেম্বর ৩০, ২০১৭।